সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল পবিত্র জুমার দিনে জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.), কক্সবাজার এবং দক্ষিণ মোহরীপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে জামিয়ার পক্ষ থেকে আন্তরিক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি নামাজের পূর্বেই জামিয়ায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকাবাসী ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন।
জুমার নামাজ শেষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জনাব সালাহুল ইসলাম (হাফিজাহুল্লাহ)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটির সদস্য, আলেম-উলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ।
স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাননীয় সংসদ সদস্যের আগমনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর মরহুম পিতা আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান ও মরহুমা সালেহা খানমের জনকল্যাণমূলক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জামিয়ার শিক্ষা, দাওয়াহ ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জামিয়া দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে এবং এখানকার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।
তিনি দক্ষিণ মোহরীপাড়ার মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামিয়ার শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল গফুর নাদিম এবং সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাফরউল্লাহ নূরী। তাঁরা জামিয়ার সার্বিক উন্নয়নে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার জামিয়া সফরের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান উন্নয়ন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি জামিয়াকে দেশের অন্যতম শীর্ষ ইসলামী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ মোহরীপাড়া অদূর ভবিষ্যতে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসবে বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি এলাকায় ৫০০ শয্যার একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। জামিয়ার পক্ষ থেকে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যুগোপযোগী শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্ম, বর্ণ ও মত-পথ নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে জামিয়া প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে নিজ হাতে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর পক্ষ থেকে মাননীয় সংসদ সদস্যকে তাঁর মূল্যবান সময়, আন্তরিকতা, দিকনির্দেশনা এবং সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।